news-details
Story

খড়ি মাটি কিংবা চালের গুড়োর আলপনার জায়গা দখল করেছে স্টিকার আলপনা        

কোচবিহার ২২ শে অক্টোবর: ধানের ছড়ার পাশে লক্ষ্মীর পায়ের ছাপে গৃহস্থের ঘড়ে মা লক্ষ্মীর আগমন। সেই অনেককাল আগের থেকেই চালের গুঁড়ো কিংবা তিলক মাটি দিয়ে গৃহ বধূদের হাতের আলপনাতে গৃহস্থের ঘরে আগমন হত দেবী লক্ষ্মীর।

 পাল্লা দিয়ে লক্ষ্মী পূজার দিন প্রত্যেক ঘরে চলত গৃহ বধূদের  আলপনা আঁকার প্রতিযোগিতা। চালের গুঁড়ো কিংবা তিলক মাটি দিয়ে আঁকা ধানের ছড়া এবং লক্ষ্মী দেবীর পায়ের ছাপে সেজে উঠত ঘড়ের দুয়ার ও মেঝে। কিন্তু বর্তমানে অত্যাধুনিক  যন্ত্রাংশের যুগে মানুষ সময় বাঁচাতে তাই লক্ষ্মী দেবীর পুজাতেও চলছে তৈরি করা আলপনা। বর্তমানে গ্রাম বাংলার সভ্য সমাজে লক্ষ্মী পুজার দিনে হাতে আঁকা আলপনার রীতি প্রায় হারিয়ে যাওয়ার খাতায়। প্রবীণা জ্যোৎস্না ঘোষ বলেন যে, বিয়ের পরে শশুর বাড়িতে এসে সারাদিন উপবাস থেকে ঢেঁকিতে চালের গুঁড়ো করে মা লক্ষ্মীর সামনে আলপনা এঁকে পুজা করতাম। সদ্য বিবাহিত দিয়া চক্রবর্তী বলেন, চালের গুঁড়ো কিংবা তিলক দিয়ে আলপনা আঁকাতে অনেক ঝামেলা তাছাড়া আলপনা আঁকতে ভালো জানিওনা, তাই বাজার থেকে রেডিমেড আলপনা কিনে নিয়ে এসেছি সেটা দিয়েই কাজ চালিয়ে নেব। নাট্যকার পূর্বাচল দাস গুপ্ত জানান, সময়ের সাথে সাথে গ্রাম বাংলা থেকে অনেক রীতিই হারিয়ে যাচ্ছে, মানুষ এখন তৈরি জিনিসের প্রতি বেশি আকর্ষিত তাই লক্ষ্মী পুজার দিনে আলপনা আঁকার রীতি এখন যা একটু সচার-আচার দেখা যায় আগামি দিনে তা আর দেখা যাবে না। বাজারে তৈরি করা আলপনার চাহিদাও বাড়ছে দেদার, হারিয়ে যাচ্ছে হাতে আঁকার আলপনার রীতি।

বিশেষ প্রতিবেদন সুরঞ্জিত ধর

You can share this post!

Comments System WIDGET PACK