Top Stories
  1. মোদীর জনসভা থেকে ফেরার পথে যানজটে আটকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত ১
  2. ভোটের আগেই আক্রান্ত বিজেপি নেতা, ভাঙ্গল গাড়ি, অভিযোগের তির তৃণমুলের দিকে
  3. "  নরেন্দ্র মোদি "   অম্বানি আর আদানি' দের বিজনেস ডেভলপমেন্ট ম্যানেজার : নভজ্যোতি সিধু
  4. বুনিয়াদপুরে সুপারস্টাকে দেখতে ভিড় জমালো আট থেকে আশির বৃদ্ধবনিতা
  5. ভোটের মুখে বোমা উদ্ধার আতঙ্ক ছড়াল পশ্চিম মেদিনীপুরের সবংয়ে
  6. রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের মৃত্যুর তদন্তে গিয়ে আক্রান্ত বনকর্মীরা। 
  7. আয়কর দপ্তরের অফিসারের" পি .এ "র পরিচয় দিয়ে এক চক্ষু চিকিৎসকের কাছে ৭০ লক্ষ টাকা দাবী, টাকা না দিলে প্রান নাশের হুমকি
  8. অজয় নায়েকের  মন্তব্যের প্রতিবাদ,অপসারণ চেয়ে  দিল্লিতে তৃণমূলের  চিঠি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে
  9. শতবর্ষের চার কদম আগে কলকাতায় অমরত্ব ব্রাহ্মণবেড়িয়ার অমর পালের
  10. ট্রেন যাত্রার মাধ্যমে প্রচার সারলেন ডায়মন্ড হারাবার লোকসভা কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী সৌম্য আইচ্ রায়
news-details
Story

সরস্বতী প্রেমবতী

 


রাগ করবেন না পাঠক প্লিজ ! সেই ছোট্টবেলা থেকে এই বুড়ি হওয়া ইস্তক দেখছি, তেনার পুজোর দিনেই শুরু যাবতীয় প্রেম উপাখ্যান। সকাল সকাল স্নান করে স্কুলে, কলেজে অঞ্জলি দেওয়ার নিয়মটুকু সেরেই ময়দানে নেমে পড়ে প্রেমভিক্ষু কিশোর-তরুণের দল। ময়দানে যুদ্ধের প্রস্তুতি এমন যেন বিদ্যার দেবী সরস্বতীর কৃপাদৃষ্টি নয়, প্রেমের দেবতা কিউপিড রয়েছেন অঞ্জলির উপলক্ষে।  প্রেমের উন্মেষ, প্রেম নিবেদন, প্রেমাঞ্জলি গ্রহীত হলো কিনা, প্রেম শেষ পর্যন্ত  সফল হবে , না হবে না ... এই সব চিত্রনাট্যের শুরুর সিংহভাগ এই দিনেই। 

আমাদের সময়ের কথা যদি বলি সরস্বতী পুজোর দিনটাই ছিল বাল্য থেকে কৈশোরে পা রাখার গেটপাস। প্রথম শাড়ি পরে বন্ধুদের সঙ্গে ইতিউতি ঘুরে বেড়ানোর ছাড়পত্রের দিন। ছেলেদেরও পায়জামা-পাঞ্জাবী বা ফুলপ্যান্ট-শার্ট/টি শার্ট পরে কিছুটা বড় হওয়া। এই একটা দিনে অভিভাবকরা কিছুটা যেন শাসন-উদাসীন থাকতেন। পাড়ার ক্লাব থেকে স্কুলের পাঁচিল ঘেরা বাড়ি, সব জায়গাতেই তখন 'বসন্ত এসে গেছে' সুর।

স্কুলের কথাই যদি বলি, পুজোর কয়েকদিন আগে থেকেই শুরু হতো তার প্রস্তাবনা। কো-এড বা ছেলেদের স্কুলে গিয়ে সরস্বতী পুজোর নেমন্তন্ন করে আসাটা আমাদের জন্য বেশ একটা নিষিদ্ধ ভালোলাগার বিষয় ছিল। কারণটা স্পষ্ট। কৈশোরে পৌঁছতেই তো কড়া বিভাজন-নির্দেশের পাঁচিল উঠে যেত ছেলে আর মেয়ের মধ্যে। খোলামেলা মেলামেশা বহু দূর, দাদার বন্ধু বা বন্ধুর দাদারা বাড়িতে এলেও দূরত্ব বজায় রাখতে হতো। কিছুটা রাশ কম থাকলেও ছেলেদের ক্ষেত্রেও বিষয়টা মোটামুটি একই ছিল।  কিছু পারিবারিক উৎসবে  মেলামেশার ন্যুনতম যে সুযোগ, সেও কালেভদ্রে। এই প্রেক্ষিতে সরস্বতী পুজোই ছিল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক উৎসব , যেখানে ছেলেমেয়েদের মেলামেশা কিছুটা বাধাহীন হতো। বাঁধন ছেঁড়ার সাধন তুঙ্গে উঠতো এই একটি দিনে। তবে, সবটাই মোটামুটি নিঃশব্দ বিপ্লব ! 

চোখে চোখে কথা, ইশারা ইঙ্গিতে মনের জানালা খুলে বসন্তবাতাসের আবাহন। বড় জোর চিঠি চালাচালি। অঞ্জলি দেওয়ার সময় মা সরস্বতীর বদলে সেই প্রিয় মুখটির কল্পনা (ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে ! )। খিচুড়ি ভোগ খেতে বসে মৃদু ঠাট্টা-ইয়ার্কি। সারাদিনের শেষে সেই রেশ নিয়েই ঘরে ফেরা। কঠিন পাহারার প্রাচীর পার করে কটা প্রেমই বা সাফল্যের সোপানে চড়তে পারতো ! তবু, প্রেম ডানা মেলতো। স্বপ্নের উড়ান ফিরে ফিরে আসতো প্রতি বসন্তপঞ্চমীতে।

আজ সকাল থেকেই খবরের চ্যানেলগুলো বলছে, আজ বাঙালির ভ্যালেন্টাইন , সরস্বতী পুজো। গত কয়েক বছর ধরেই সরস্বতী পুজোর দিনটিকে এই শিরোনাম দেওয়ার একটা প্রবণতা চলছে। এ প্রসঙ্গে বলা দরকার পাশ্চাত্যের ভ্যালেন্টাইন ডে-কেও বিশ্ব বাণিজ্য দুনিয়া নিজেদের হিসেবে বিপণনের প্রেক্ষাপট রূপে চিহ্নিত করেছে। সাধু ভ্যালেন্টাইনের আত্মত্যাগ ভুলে কার্ড, উপহার, চকোলেট , ফুল ইত্যাদি আদানপ্রদানে মেতেছে হুজুগে মানুষ। বিশ্ববাজারের যারা নিয়ন্ত্রক তারা খুশি । সে হোক, কিছু আর্থিক লেনদেন হচ্ছে, তাতেও উপকৃত হচ্ছেন অনেকে। এতে কোনও দোষ নেই। কিন্তু ভ্যালেন্টাইন ডে আর সরস্বতী পুজোর দিনের কুসুমিত প্রেম , দুটোর পটভূমি কি সত্যিই এক ?  

যুগের কথাই যদি বলি, কৈশোর-তারুণ্য ছাড়ুন বাল্যেও প্রেম এখন আর তত রক্তচক্ষুর শাসন মানে না। এখন কেন, এটা ৩০/৩৫ বছর আগের কথা বলছি। আমার শিক্ষিকা মা ( প্রাইমারি স্কুল) ক্লাস ফোরের ছেলেমেয়ের বইয়ের মধ্যে প্রেমপত্র আবিষ্কার করে বিষম খেয়েছিলেন। অর্থাৎ প্রায় চার যুগ আগে থেকেই বাঁধন ছেঁড়া শুরু হয়ে গেছে। আজ তো প্রেমের পরিবেশ চূড়ান্ত অনুকূল। 

কথা হলো , যুগ বদলে কতটা বদলেছে প্রেক্ষিত ? প্রথম কথা হলো যেখানে বাঁধানটাই শিথিল, সেখানে বাঁধন ছেঁড়ার আর দরকার কোথায় ? সারা বছরই মেলামেশার স্বাভাবিক ছন্দে জীবনযাপন। সেখানে সরস্বতী পুজোর দিন আলাদা করে ডেটিং-এ যাওয়ার মজা কই ? এরও পর আছে সোশ্যাল মিডিয়া। বন্ধুত্ব, প্রেম, সম্পর্কের ভাঙাগড়া নিত্যদিনের ঘটনা। আর সবটাই খোলামেলা। গোপন কথাটি যদি গোপনই না থাকে , তাহলে আর সেই রোমাঞ্চ কোথায় ? রোমাঞ্চ ছাড়া কি রোমান্স হয় ? জবাব দিতে পারবে নতুন প্রজন্ম।

তবে, সরস্বতীকে তথাকথিত ভ্যালেন্টাইন দেবী আখ্যা দিতে এত কিছুর পরও আমার কিছু আপত্তি আছে। কিছু থাক না নিখাদ বাঙালির ! প্রেম বিশ্বজনীন জানি। তবু , দেশকাল ভেদে কি তার অভিব্যক্তি বদলায় না ? আবেগের অভিমুখ বা তার প্রকাশ কি সব দেশের সব মানুষের ক্ষেত্রে এক হয় ? সরস্বতী পুজোর সকালে স্নান করে মেয়েরা শাড়ি বা ছেলেরা ধুতি ( অথবা এমন যে কোনও পোশাক যাতে নিজেকে আকর্ষণীয় করে তোলার একটা চেষ্টা থাকে ) পরে অঞ্জলি দিতে যাওয়া। ভীরু চাহনিতে তাকেই খুঁজে ফেরা। মা সরস্বতীর কাছে পড়াশোনা কেন্দ্রিক আর্জি জানানোর ফাঁকেই কোথাও উদাসী হয়ে পড়া। এইসব কি ভ্যালেন্টাইন ডে-তে হয় ? 

ভ্যালেন্টাইন দিবস পালন হোক না তার মতো করেই। কার্ড, ফুল, উপহার, চকোলেটে উপচে পড়ুক প্রেমের ঝুড়ি। আর মা সরস্বতীর দিনটা কাটুক বাঙালির স্বতন্ত্র ব্যাঞ্জনায়। কিছু অধরা মাধুরী অবশিষ্ট থাক এই অমল প্রভাতের ঝুলিতে। বয়ঃসন্ধির প্রথম লগ্নে প্রেমের উন্মেষ নাই বা হলো আলোকে-উচ্চারণে উচ্চকিত।

সব শেষে একটাই কথা, দিন বা পালনের নাম যাই হোক প্রেমটুকু যেন থাকে। সেটা হারালে দিবস পালন অর্থহীন, সে সরস্বতী পুজো হোক বা ভ্যালেন্টাইন !!

অজন্তা সিনহা

You can share this post!

Comments System WIDGET PACK

Download Our Android App from Play Store and Get Updated News Instantly.