Top Stories
  1. মোদীর জনসভা থেকে ফেরার পথে যানজটে আটকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত ১
  2. ভোটের আগেই আক্রান্ত বিজেপি নেতা, ভাঙ্গল গাড়ি, অভিযোগের তির তৃণমুলের দিকে
  3. "  নরেন্দ্র মোদি "   অম্বানি আর আদানি' দের বিজনেস ডেভলপমেন্ট ম্যানেজার : নভজ্যোতি সিধু
  4. বুনিয়াদপুরে সুপারস্টাকে দেখতে ভিড় জমালো আট থেকে আশির বৃদ্ধবনিতা
  5. ভোটের মুখে বোমা উদ্ধার আতঙ্ক ছড়াল পশ্চিম মেদিনীপুরের সবংয়ে
  6. রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের মৃত্যুর তদন্তে গিয়ে আক্রান্ত বনকর্মীরা। 
  7. আয়কর দপ্তরের অফিসারের" পি .এ "র পরিচয় দিয়ে এক চক্ষু চিকিৎসকের কাছে ৭০ লক্ষ টাকা দাবী, টাকা না দিলে প্রান নাশের হুমকি
  8. অজয় নায়েকের  মন্তব্যের প্রতিবাদ,অপসারণ চেয়ে  দিল্লিতে তৃণমূলের  চিঠি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে
  9. শতবর্ষের চার কদম আগে কলকাতায় অমরত্ব ব্রাহ্মণবেড়িয়ার অমর পালের
  10. ট্রেন যাত্রার মাধ্যমে প্রচার সারলেন ডায়মন্ড হারাবার লোকসভা কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী সৌম্য আইচ্ রায়
news-details
Story

কথায় কথায় বন্যেরা বনে সুন্দর

গত কদিন ধরে বাজার গরম করে রেখেছে সচিন। নাহ, ইনি তেন্ডুলকর নন। ইনি বেঙ্গল সাফারির বাসিন্দা সচিন। লেটেস্ট তথ্য হলো , পালিয়ে গিয়ে ফিরেছে সচিন। শরীরে আঘাত আছে। তার চিকিৎসাও চলছে। 

ভালো কথা। তবে , এর গ্যারান্টি কোথায় , যে, সচিন আবার পালাবে না ?  খবর বলছে সুরক্ষা ব্যাবস্হায় ত্রুটি ছিল। অর্থাৎ রক্ষীদের অবহেলার সুযোগ নিয়েছে সচিন। রক্ষীরা অবহেলা করেছে না পিছনে অন্য কোনও বিষয় আছে , তা তদন্তসাপেক্ষ। আমার বক্তব্য সেটা নিয়ে নয়। আমি ভাবছি সচিনের ভাবনার কথা। সে এই সুযোগ নেওয়ার চেষ্টাটা করলো কেন ? সচিনের শরীরের চিকিৎসা হচ্ছে, কিন্তু তার মনের তত্ত্বতালাশ নিচ্ছে কি কেউ ? পাঠক হাসবেন না প্লিজ। ওদের মতো করে ওদেরও একটা মন আছে। 

যাঁরা পশুপাখি ভালোবাসেন, তাঁরা হয়তো আমার সঙ্গে সহমত হবেন। সৃষ্টির আদিকাল থেকে ওরা আমাদের সহযাত্রী। শুরুতে আমরা সবাই জঙ্গলে। তারপর ওরা জঙ্গলে, আমরা লোকালয়ে। বিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে গৃহে পালিত হলো কেউ কেউ। পাহারায়, চাষবাসের কাজে, মালবহনে বা নিছক ঘরোয়া পোষ্য রূপে। এ ছাড়া চিড়িয়াখানা, সার্কাস, সিনেমা সর্বত্র হাজির ওরা, শুধু আমাদেরই বিনোদনের উদ্দেশ্যে।

গৃহের বাইরে জঙ্গলে পশুদের বসবাসের ক্ষেত্রেও আমাদের স্বার্থ রক্ষিত। প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হবে, ওরা না থাকলে, এ তত্ত্ব আজ সবারই জানা। মোদ্দা কথা ওদের যত না দরকার, আমাদের ক্ষেত্রে ওদেরকে প্রয়োজন তার থেকে কিছু কম নয়। 

স্বার্থরক্ষার বিষয়টা যখন উভয়ত, তখন শরীরের সঙ্গে সঙ্গে মনের ব্যাথা তো বুঝতেই হবে। সচিনের যেখানে বাস, সেটা জঙ্গল হলেও, সংরক্ষিত। অর্থাৎ পুরো স্বাধীন নয়। চিড়িয়াখানার মতো ততটা না হলেও সংরক্ষিত জঙ্গল সেই খাঁচাই তো  !! বরাবর সেখানে থাকতে ভালো না-ই লাগতে পারে তার। যেমন আমাদেরও একঘেয়ে লাগে রুটিন জীবন। 

সেই রুটিন জীবন থেকেই পালাতে চেয়েছিল সচিন, এটা বোঝার জন্য খুব বড় ডিগ্রিওয়ালা মনস্তাত্বিক হওয়ার দরকার পড়ে না। খোলা জঙ্গলের পশুদের সেই সমস্যা নেই , চাইলেই এদিকওদিক চলে যেতে পারে ওরা। বেঁচে থাকার প্রয়োজনে সেটা অহরহ দরকারও পড়ে ওদের। 

আর এই বেঁচে থাকার জন্যই সচিনেরও পালিয়ে আবার  ফিরে আসা। বেচারা শিকার ব্যাপারটাই তো ভুলতে বসেছে। প্রবল খিদের সময় পুরনো ঠিকানার নিরাপত্তা বলয়ে ফেরাই যুক্তিযুক্ত মনে করে সে তাই।তার যা জন্মগত প্রতিভা, সেই শিকারের ক্ষমতা, মানুষই ভুলিয়ে দিয়েছে তাকে। উল্টোদিকে মানুষের সাহচর্যই আজ তার কমফোর্ট জোন। তাই মানুষেরও দায়িত্ব সচিনদের সেই কমফোর্ট, অর্থাৎ  স্বাচ্ছন্দ্য দেওয়া। এটা না হলে মন খারাপের ব্যাকুল বাতাস বার বার উতলা করবে সচিনদের। পালাবে তারা মুক্তির নিঃশ্বাসের খোঁজে।  

অজন্তা সিনহা

You can share this post!

Comments System WIDGET PACK

Download Our Android App from Play Store and Get Updated News Instantly.