news-details
State

৯৩ বছর বয়েসী বৃদ্ধা নাতির বিয়ের বৌভাত উপলক্ষে দিয়ে গেলেন তার জীবনের সেরা উপহার

 


বারাসাত, ০৬ ডিসেম্বর : নদীয়া জেলার হরিনঘাটা থানার ঝিকরা বটতলা এলাকার বাসিন্দা ৯৩ বছর বয়সী পারুল দাস। তিনি নাতির বিয়ের বৌভাত উপলক্ষে দিয়ে গেলেন তার জীবনের সেরা উপহার। বৌভাতের দিনই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে যাওয়ার পর তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী ব্যবস্থা করা হল চক্ষুদানের।


পরিবার ও হাসপাতাল সুএের খবর, মঙ্গলবার দুপুরে তার নাতির বৌভাতের অনুষ্ঠান ছিল। আর সেই অনুস্থানের দিনই তরিঘরি করে ঘরে ফেরার পথে হঠাৎ মাথা ঘুরে আচমকাই পড়ে যান তিনি। হাসপাতালে ভর্তির আগেই মুমূর্ষু অবস্থার মধ্যেও চক্ষুদানের ইচ্ছা প্রকাশ করে গেলেন ঠাকুমা পারুল দাস। বাড়িতে তখন নাতি সঞ্জীব দাসের ধুমধাম করে বৌভাতের ‌আয়োজন গ্রামবাসি থেকে আত্মীয় পরিজনদের ভিড়। পরিবারের সদস্য ও উপস্থিত আত্মীয়রা তাকে স্থানীয় হাবড়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে কিছুখনের মধ্যেই তার মৃত্যু ঘটে। স্বাভাবিকভাবেই শোকে কাতর হন ওই পরিবারের সদস্যেরা। ঠাকুমার মৃত্যুতে নাতির বউভাতের রাতের অনুষ্ঠান ও খাওয়াদাওয়া হল না। পরিবারের সদস্যরা সিদ্ধান্ত নেয় পারুল দেবীর চোখের আলোয় দেখবে দুটি অন্ধ মানুষের মধ্য দিয়ে। তাই চক্ষু দানের সিদ্ধান্ত নেন তারা। সেইমত বৃদ্ধার কর্নিয়া জোড়া সংগ্রহ করলেন একটি  বেসরকারি চক্ষু হাসপাতালের চিকিৎসকেরা। নজির বিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকলেন ঐ পরিবারের সকল সদস্য সহ হাবড়া হাসপাতালের উপস্থিত রোগীর আত্মীয়-স্বজন থেকে শুরু করে সাধারন পথ চলতি মানুষ। পারুলের পুত্রবধূ‌ সুলেখা দাসের কথায়, 'শাশুড়ি মায়ের এই মৃত্যু মানতে কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু তাঁর অন্তিম ইচ্ছাকে আমরা সকলেই সম্মান জানিয়েছি।' পারুল দাসের নাতি সঞ্জয়ের কথায়, 'মৃত্যুর আগে ঠাকুমার এই চক্ষুদান আমার বউভাতের সেরা উপহার।'

You can share this post!

Comments System WIDGET PACK

Download Our Android App from Play Store and Get Updated News Instantly.