news-details
Siliguri

গোবর্ধন পূজার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত শিলিগুড়ির ইসকন মন্দির

শিলিগুড়ি , ০৮ নভেম্বর:  দিওয়ালি শেষ হতে না হতেই  শিলিগুড়ি ইসকন মন্দিরে শুরু হয়ে গেছে গোবর্ধন পূজার প্রস্তুতি। মন্দিরের পুরোহিত ও ভক্তরা তৈরী করছেন কৃত্রিম গোবর্ধন পাহাড়। গোবর্ধন পূজা সম্পর্কে শ্রীল জীব গোস্বামী তাঁর'গোপাল চম্পু'গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে, শরৎএর ঠিক মাঝামাঝি আসে কার্তিক মাস, আর সেই সময়‌ই এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন ব্রজবাসীরা, তাঁরা ইন্দ্র পূজা করেন সেই সময়। তাই বর্তমানে ব্রজবাসীদের ব্যস্ততা তুঙ্গে।  

কৃষ্ণের বয়স যখন মাত্র ৭ বছর তখন তার পিতা এবং অন্যান্য লোকদের নানান কাজে ব্যস্ত দেখে কৃষ্ণ জিজ্ঞাসা করলেন, "তোমরা কি করছো পিতা? তাকগান নন্দ মহারাজ বললেন যে, আমরা ইন্দ্র পূজা করছি। কৃষ্ণ জিজ্ঞাসা করলেন ইন্দ্র পূজা কেন করছো? নন্দ মহারাজ বললেন যে,দেখো,আমরা তো বৈশ্য, গোপ জাতি। কৃষি এবং গোপালন হচ্ছে আমাদের জীবিকা। গোপালনের জন্য আমাদের ঘাসের দরকার,চাষবাসের জন্য আমাদের বৃষ্টি দরকার। আর ইন্দ্র হচ্ছেন বৃষ্টির দেবতা। তাই আমরা ইন্দ্রের পূজা করি যাতে ইন্দ্র আমাদের প্রতি প্রসন্ন হয়ে বৃষ্টি দান করেন।
কৃষ্ণ বললেন বাবা সমুদ্রের মাঝখানে তো কেউ ইন্দ্র পূজা করে না, তাহলে সেখানে কেন বৃষ্টি হয়? 
নন্দমহারাজ একটু চিন্তা করে দেখলেন যে তাইতো, আমরা ভাবছি ইন্দ্রকে পূজা করার ফলে বৃষ্টি হচ্ছে,কিন্তু অনেক জায়গায় তো ইন্দ্র পূজা হয় না,সেখানেও তো বৃস্টি হয়।যেখানে জলের প্রয়োজন নেই সেখানেও বৃষ্টি হয়।তখন নন্দ মহারাজ বললেন,দেখো এটা আমাদের চিরাচরিত প্রথা।সেই প্রথা অনুসারে আমরা ইন্দ্র পূজা করি। কৃষ্ণ আবার জিজ্ঞাসা করলেন, এই প্রথাটি কি শাস্ত্রীয়,না লোকাচার? নন্দ মহারাজ একটু ফাঁপরে পড়ে গেলেন, তিনি ভাবতে লাগলেন কোন শাস্ত্রে আছে।তাই তিনি বললেন এটা লোকাচার। তাই কৃষ্ণ বললেন দেখো বাবা শুধু শুধু লৈকিক আচার করে আমাদের কি লাভ! আমাদের জীবিকা যে গোপালন,গাভী বর্ধনের জন্য আমরা গোবর্ধনের কাছে ঋণী, ইন্দ্রের কাছে নয় চলো আমরা গোবর্ধনের পূজা করি।" যদিও কৃষ্ণ ৭ বছরের ছেলে,তবুও কৃষ্ণ যা-ই বলে নন্দ মহারাজ এবং অন্যান্য সকলে তা মেনে নেন তাই নন্দ মহারাজ এবং অন্যরা সকলে মিলে ইন্দ্র পূজার যে আয়োজন করেছিলেন,তা নিয়েই গোবর্ধন পূজা হয়।  (এন এ )

You can share this post!

Comments System WIDGET PACK