news-details
Siliguri

কলেজ পড়ুয়াদের মিছিলকে কেন্দ্র করে এসএফআই ও টিএমসিপি'র মধ্যে ব্যাপক হাতাহাতিতে উত্তপ্ত মহিলা কলেজ

শিলিগুড়ি, ১১ জানুয়ারিঃ বৃহস্পতিবার শিলিগুড়িতে ব্রিগেড সমাবেশকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের মিছিলে যোগদানকে কেন্দ্র করে শুক্রবার দুই রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে মারপিটে উত্তপ্ত হয়ে উঠলো শিলিগুড়ির মহিলা কলেজে। মারামারি, হাতাহাতিতে জরালো তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সদস্যা ও এসএফআই সদস্যারা। উভয় পক্ষের অভিযোগ দায়ের শিলিগুড়ি থানায়। পরে পুলিশি হস্তক্ষেপে মারপিট থামে।

অভিযোগ, ব্রিগেড সমাবেশকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার টিএমসিপি'র রাজ্য সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যের শিলিগুড়িতে মিছিলে যোগদান করাবার জন্য শিলিগুড়ির বিভিন্ন কলেজ থেকে জোর করে ছাত্র-ছাত্রীদের মিছিলে আনা হয়, এবং কিছু ছাত্রীকে আটকেও রাখে টিএমসিপি'র সদস্যরা। এরই পেক্ষিতে ওই দিন মহিলা কলেজের এসএফআই সমর্থিত ছাত্রীরা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যাপিকাকে অভিযোগ জানিয়ে স্মারকলিপি দেয়। এরপরই শুক্রবার দুপুর থেকে উত্তাপের পারদ চড়তে থাকে শিলিগুড়ি মহিলা কলেজে। অভিযোগ, এদিন সকালে সেই ঘটনাকে কেন্দ্র কলেজের এফএফআই সমর্থক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী অনিন্দিতা চক্রবর্তীকে আটকে রাখে তৃণমূল সদস্যরা। তার বাবা অজয় চক্রবর্তীর বিষয়টি জানার পর তাকে ছাড়াতে আসেন কলেজে। অপরদিকে তার দিদি অয়ন্তিকা চক্রবর্তী এসে কলেজে ঢুকতে চাইলে বহিরাগত বলে আটকে দেওয়া তৃণমূল  ছাত্র সংগঠন। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত ওঠে মহিলা কলেজ। অভিযোগ, এরপরই অনিন্দিতা চক্রবর্তীর বাবা ও দিদি টিএমসিপি'র সদস্যদের মারধোর করতে শুরু করে। ফলে ব্যপক উত্তেজনা ছড়ায় গোটা কলোজ চত্তরে। ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে ছুটে আসে শিলিগুড়ি থানার পুলিশ। আটক করা হয় অনিন্দিতা চক্রবর্তী ও বাবা অজয় চক্রবর্তীকে। পরে বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার পাল্টা স্মারকলিপি দেয় টিএমসিপি সমর্থিত ছাত্রীরা। এদিকে এই ঘটনার পর টিএমসিপি সমর্থক এক ছাত্রীর বক্তব্য,  গতকাল কোন ছাত্রীকে রেখে, কিংবা জোর করে মিছিলে যোগদান করানোর এমন কোন ঘটনাই ঘটে নি। শুধুমাত্র অভিযোগ তোলার জন্য ডেপুটেশন দেয় এসএফআই। সেকারনে আজ ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা যখন ওই ছাত্রী ও তাদেরকে নিয়ে কথা বলছিলেন, সেই সময় অনিন্দিতা চক্রবর্তীর বাবা ও দিদি তাদের ওপর চড়াও হয়। তার অভিযোগ, সেইসময় তারা কলেজের টিএমসিপি সমর্থক ছাত্রীদের বেধরক মারধোর করতে থাকে। একজন পুরুষ হয়ে কিভাবে মেয়েদের গায়ে হাত তুলতে পারে? এই বিষয় নিয়ে ভারপ্রাপ্ত শিক্ষিকাকে অভিযোগ জানানো হয়েছে। তাদের শাস্তির দাবী জানিয়েছে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ। অন্যদিকে এই মারধোরের অভিযোগ অস্বিকার করে এসএফআই সদস্যদের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার তৃণমূল ছাত্র পরিষদের মিছিলে যোগদান করাবার জন্য ছাত্র ছাত্রীদের জোর করে আনা হয়। তাতে যারা আসতে চায় নি তাদের আটকে রাখে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সদস্যরা। এরপরই মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষিকাকে অভিযোগ করা হলে, শুক্রবার সকালে এসএফআই ওই ছাত্রীকে জোর করে আটকে রাখে এবং মুচলেখা লিখিয়ে নেয় টিএমসিপি। এরপর ওই ছাত্রীর বাবা ও দিদি তাকে ছাড়াতে গেলে পাল্টা হামলা করে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সদস্যরা। এদিনের এই ঘটনার পর ভারপ্রাপ্ত অধ্যাপিকা স্বাতি বন্দ্যোপাধ্যায়, ছাত্রীদের জোর করে মিছিলে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি জানেন না বলে জানান। কিন্তু এসএফআই-এর পক্ষ থেকে একটি মেমোরেন্ডাম পাওয়ার কথা শিকার করেন তিনি। এরপরই এদিন কলেজে অস্থিরতা দেখার পর ওই ছাত্রী অনিন্দিতাকে নিরাপত্তার কারনেই তিনি তার ঘরেই রেখে দেন। তারপর তার বাবা ও দিদি নিয়ে যান। কিন্তু কলেজের মধ্যে মারধোর বা ছাত্রীদের মারপিটের মত এমন কোন ঘটনাই ঘটে নি। বাইরে হলে তার বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারবেন না বলে জানান। এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে গোটা শিলিগুড়িতে।

You can share this post!

Comments System WIDGET PACK

Download Our Android App from Play Store and Get Updated News Instantly.