news-details
Siliguri

অবনী হত্যায় সরব পশু চিকিৎসক সংগঠন, আইনি নোটিশ মহারাষ্ট্র বনদপ্তর কে

নরেশ জানা, শিলিগুড়িবার্তা , ৮ নভেম্বর: অবনী ১ বাঘিনী হত্যায় এবার আরও চাপের মুখে মহারাষ্ট্র সরকার। বেআইনি পদ্ধতিতে দুই শাবকের জননীকে হত্যা করা হয়েছে এই অভিযোগে রাজ্যের বনদপ্তরকে নোটিশ পাঠাল পশু চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ সংগঠন।

ন্যাশানল ভেটেনারি ডক্টরস এ্যাসোসিয়েশন রাজ্যের মুখ্য বন্যপাল আধিকারিকে বুধবার পাঠানো ওই নোটিশে দাবী করা হয়েছে, অবনীকে ঘুমপাড়ানী গুলি দিয়ে ট্র্যাঙ্কুলাইজ করার পাশাপাশি হত্যা করার সময়‌ও ওই টিমে কোনও ভেটেনারি ডাক্তারকে রাখা হয়নি যা কিনা ইন্ডিয়ান ভেটেনারি কাউন্সিল অ্যাক্টের পরিপন্থী।

সংগঠনের সভাপতি ডক্টর চিরন্তন কেডিয়ান জানান, পশুদের সংরক্ষণ তালিকায় ১ নম্বরে রয়েছে যে, কোনও পশুকে ঘুমপাড়ানি গুলি ব্যবহার করতে হলে একজন পশু চিকিৎসকের ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক। কারন ওষুধের ডোজ, তার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া, ওষুধের অতিরিক্ত প্রভাব, শরীরে জলাভাব, এন্টি ডোজ ইত্যাধি নির্ধারণ করতে পারেন একজন পশু চিকিৎসকই। এটা কোনও শিকারি, তিনি যতই দক্ষ হননা কেন তার পক্ষে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

প্রশ্ন উঠেছে যে, অবনীকে হত্যা করার জন্য নবাব সাফাত আলি খানের পুত্র আসগর আলি খানের থ্রি হান্ড্রেড উইঞ্চেস্টার ম্যাগনাম রাইফেল ব্যবহার করা হয়েছিল এবং ওই রাইফেলে ব্যবহৃত ৭.৬২ ব্যাসের ১১.৫গ্রাম বুলেটের ব্যবহার জাতীয় ব্যাঘ্র সংরক্ষণ আইনের পরিপন্থী। উল্লেখ্য,  কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মানেকা গান্ধী এবং তাঁর সংগঠন ইতিমধ্যেই সরব হয়েছেন অবনীকে হত্যার প্রতিবাদে। ৫০ হাজারের বেশী মানুষ সই করেছিল অবনীকে হত্যার পরিবর্তে জীবন্ত ধরার প্রস্তাব দিয়ে। মামলা গড়িয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। স্বয়ং রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন জানিয়ে বলা হয়েছিল। অবনীকে হত্যার পরওনা আসলে তার দুটি ১০ মাসের শিশুকেও হত্যার পরওনা। কিন্তু কথা শোনেনি মহারাষ্ট্র বন দপ্তর। ২০১৬ থেকে অবনী ১৩ জন মানুষকে হত্যা করেছে তাই তাকে নরখাদক আখ্যা দিয়ে গত ২রা নভেম্বর যবতমাল জঙ্গলে হত্যা করা হয়। পশুপ্রেমীদের দাবী ছিল হত্যা না করে জীবন্ত অবস্থায় ধরে তাকে অন্য কোথাও পুনর্বাসন দেওয়া হোক।

ঘটনার তীব্র নিন্দা করে পশুপ্রেমীদের সংগঠনগুলি জানিয়েছিল, সস্তা জনপ্রিয়তা ও রাজনৈ্তিক ফায়দা নেওয়ার জন্যই অবনীকে হত্যা করেছে মহারাষ্ট্র সরকার। স্বয়ং মানেকা গান্ধী এই ঘটনার জন্য মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশকে তীব্র ধিক্কার জানিয়েছিলেন। পশু চিকিৎসক সংগঠনের এই নোটিশের পর অবনী নিয়ে আরও আইনি জটিলতার মুখে পড়তে হবে মহারাষ্ট্র সরকারকে এমনটাই ধারনা বিশেষজ্ঞ মহলের। 

You can share this post!

Comments System WIDGET PACK