news-details
North Bengal

দেবদাসের কালেই থেমে আছে হাতিপোঁতা

 

নিজস্ব সংবাদদাতা, কালনা , ২৮ শে জুলাই: কথা শিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের  "দেবদাস" উপন্যাসের জন্যই  চিরখ্যাত হয়ে আছে  হাতিপোঁতা গ্রাম। কালনা থানার নান্দাই গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত এই গ্রামটির অনেক কিছুরই পরিবর্তন ঘটে গেছে। কিন্তু আজও পর্যন্ত কোন পরিবর্তন ঘটেনি এই গ্রামের রাস্তার। দেবদাসের কালেই থেমে আছে। ডিজিট্যাল প্রযুক্তির যুগে এই গ্রামের রাস্তা দিয়ে হাঁটাই যায় না বলে গ্রামবাসীদের অভিযোগ। দেবদাসের যুগে রাস্তাঘাট কেমন ছিল কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিবরণ থেকে তুলে দেওয়া হল। পাণ্ডুয়া  ষ্টেশনে আসিয়া উপস্থিত হইল। দেবদাস স্টেশনের বাহিরে আসিল। এক ঘোড়ার গাড়ির গারোয়ানকে ডাকিয়া কহিল বাপু, হাতিপোতায় নিয়ে যেতে পারবে? গারোয়ান  কহিল, "না বাবু রাস্তা ভালো নয় ঘোড়ার গাড়ি বর্ষায় ওখানে যেতে পারবে না।" দেবদাস উদ্বিগ্ন  হইয়া প্রশ্ন করিল, "পালকি পাওয়া যায়?"   গারোয়ান বলিল, "না।" গারোয়ান কহিল, "বাবু, একটা গরুর গাড়ি ঠিক করে দেব?" -"কতক্ষনে পৌঁছাবে ?"  গারোয়ান কহিল, "রাস্তা ঘাট ভালো নয়, বোধ হয় দিন দুই লেগে যাবে।"  দেবদাস গরুর গাড়িতে উঠিয়ে বসিল। পথ ভালো নয়। বর্ষার জল কোথাও পথের মাঝে জমিয়ে আছে। কোথাও বা পথ ভাঙিয়া  গিয়াছে। কাঁদায় সমস্ত রাস্তা পরিপূর্ন। গরুর গাড়ি হটর হটর করিয়া চলিল। কোথাও নামিয়া চাকা ঠেলিতে হইল, কোথাও গরু দুটোকে  নির্দয়ভাবে প্রহার করিতে হলো যেমন করে হোক ষোল ক্রোশ পথ অতিক্রম করতেই হইবে। এটাই হল তখনকার দিনে পাণ্ডুয়া থেকে হাতীপোঁতা আসার পথ ঘাটের অবস্থা। বর্তমান সময়েও এই রকম  অবস্থা রয়েছে  বটতলা থেকে  হাতিপোঁতা দেবদাস  প্রাথমিক স্কুল পর্যন্ত।  হাতিপোঁতা  গ্রামের রাস্তার অবস্থা খুবই ভয়াবহ, সেকথা স্বীকার করে নিয়েছেন  হাতিপোঁতা দেবদাস স্মৃতি সংঘের সম্পাদক তথা নান্দাই গ্রাম   পঞ্চায়েতের  প্রাক্তন প্রধান আরজেদ শেখ। তিনি জানান পঁচিশ লক্ষ টাকার একটি ইকো পার্ক এবং গ্রামের রাস্তাটি নির্মাণ করার জন্য প্রকল্প জমা দেওয়া আছে। কিছু ঘ্যাস ফেলে গ্রামের রাস্তাটি আপাতত মেরামত করা হবে।

আলেক শেখ, কালনা

  • Tags

You can share this post!

Comments System WIDGET PACK