news-details
North Bengal

গোপন ডেরা থেকে আসল মোর্চা কারা বলে প্রশ্ন তুলে বিনয় তামাং-এর সিদ্ধান্তকে বাতিল বলে ঘোষনা বিমল গুরুঙ, রোশন গিরির

দার্জিলিং, ২১ জানুয়ারিঃ ফের গোপন ডেরা থেকে বিনয় তামাং ও তৃণমূলকে আক্রমন বিমল গুরুং, রোশন গিরির। সেইসঙ্গে আসল মোর্চা কারা? সেই প্রশ্নও তুলে দিলেন তারা। সোমবার ২১ জানুয়ারি তারা তাদের গোপন ডেরা থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে দাবী করেন যে, বিনয় তামাং-এর সঙ্গে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার কোন সম্পর্কই নেই। সেইসঙ্গে আগামী লোকসভা নির্বাচনে বিনয় তামাং মমতার তৃতীয় ফ্রন্টের সঙ্গে থাকার বিষয়টি উড়িয়ে দিয়ে মোর্চা বিজেপি'র এনডিএ জোটের সঙ্গে আছে বলে প্রেস রিলিজে উল্লেখ করেছেন বিনয়, রোশন।

উল্লেখ্য, গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার পক্ষে সম্প্রতি বিনয় তামাং ঘোষণা করেছিলেন, আগামী লোকসভা নির্বাচনে মোর্চার সমর্থন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর তৃতীয় ফ্রন্টের সঙ্গে আছে। সেই ঘোষণাকেই কার্যত খারিজ করতেই এদিনের এই প্রেস রিলিজ জারি করে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সমর্থন বরাবরই বিজেপি'র পক্ষে রয়েছে বলে জানিয়ে দিল গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সাধারণ সম্পাদক রোশন গিরি। সেইসঙ্গে এই বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, "২০১৭ সালের ২০ সেপ্টেম্বর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে শুধুমাত্র জিটিএ'এর প্রশাসক হিসাবেই নিয়োগ করেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের অধিনস্ত একজন কর্মচারি মাত্র।  সেক্ষেত্রে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সংগঠন নিয়ে তাঁর বলার কোন অধিকারই নেই"। রোশন গিরি এই প্রেস রিলিজে আরও উল্লেখ করেছেন যে, “বিনয় তামাংকে গত ২০১৭ সালেে ১লা সেপ্টেম্বর, গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার তরফ থেকে কোন কিছুই বলার অধিকার তাঁর নেই”। রোশন গিরির সই করা চিঠিতে জানান হয়েছে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা বিজেপির এনডিএ জোটে ছিল, বিজেপির সঙ্গেই আছে। নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহ এর প্রতি তাঁদের বিশ্বাস ও পূর্ণ সমর্থন আছে বলেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে এই প্রেস রিলিজে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য,  গতবছর ১৫জুন পাহাড়ে বাংলা ভাষাকে বাধ্যতামূলক করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের দার্জিলিং-এর ভানুভবনে  সরকারী আধিকারিকদের সঙ্গে একটি বৈঠক করেন। সেই সময় বিমল গুরুং এর নেতৃত্বে মোর্চা কর্মী, সমর্থকরা মুখ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে প্রতিবাদে ভানুভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখায়। পরে মুখ্যমন্ত্রী ফিরে গেলেও আন্দোলন বাড়তে থাকে পাহাড়ে। তাতেই ভানুভবন ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ ওঠে মোর্চার বিরুদ্ধে। এরপর অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে পাহাড়। সরকারি সম্পত্তি নষ্ট, অগ্নি সংযোগ, পুলিশের ওপর হামলার মত অভিযোগ ওঠে মোর্চার বিরুদ্ধে। এরপরই বিমল গুরুংকে ধরতে গিয়ে তার দেহরক্ষীর গুলিতে মারা যান পুলিশ অফিসার অমিতাভ মল্লিক। ওই পুলিশ অফিসার হত্যাকাণ্ডেও সরাসরি জড়িয়ে থাকার জন্য হত্যা মামলার ধারা দেওয়া হয় বিমল গুরুঙ, রোশন গিরি সহ একাধিক মোর্চা নেতাদের। স্তব্ধ হয়ে যায় পাহাড়ের জনজীবন৷ বনধ চলে টানা ১০৫ দিন। এরপরই গা ঢাকা দেয় বিমল গুরুঙ, রোশন গিরি সহ বেশ কিছু মোর্চা নেতা। ধরাও পরে অনেকে। কিন্তু এখনও সেই গোপন ডেরায় বসেই পাহাড়কে নিয়ন্ত্রন করছে বলে সুত্রের খবর। এরই মাঝে তাদের অনুপস্থিতিতে উঠে আসে বিনয় তামাং৷ জিটিএ'এর প্রশাসক হিসেবে নিযুক্ত হয়েই, মোর্চা সহ পাহাড়ের নিয়ন্ত্রন তুলে নেয় নিজের হাতে। সমর্থনে এগিয়ে আসে তৃণমূল কংগ্রেস ও সরকার। তাতেই তিনি লোকসভা ভোটে তৃণমূলকে সমর্থন জানিয়ে মোর্চার পক্ষে সায় দেন। আর এই খবর গোপন ডেরায় খবর পৌছতেই তরিঘরি নিজেদের অস্তিত্ব প্রমান করতে প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করে মোর্চার সর্বাধিকারি তারাই বলে ঘোষনা করেন বিমল, রোশনরা। আর এই দুই গোষ্ঠির টানাপোরেনে ভোটের আগে সিঁদুরে মেঘ দেখছে পাহাড়ের নাগরিকরা৷ আর আসল আগ মার্কা গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা কারা? এই প্রশ্নের সমাধান যতদিন না হচ্ছে, ততদিন পাহাড়ে অশান্তির আশঙ্কা থাকেই যাচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

You can share this post!

Comments System WIDGET PACK

Download Our Android App from Play Store and Get Updated News Instantly.