news-details
North Bengal

আন্তর্জাতিক পাচার চক্রের হদিস, মিলেছে ২৫ জন আটকে থাকা বঙ্গ সন্তান

 নিজস্ব সংবাদদাতা, কালনা : ৮ই নভেম্বর-- খুব সম্প্রতি ইরানে কাজে গিয়ে আটকে থাকা ২৫ জন বঙ্গসন্তানকে ফিরিয়ে আনার পর একটি আন্তর্জাতিক পাচার চক্রের হদিস মিলেছে। আর এই পাচার চক্রের সাথে জড়িত আব্দুল ফরিদ ওরফে বাপি নামক এক যুবকের নাম উঠে এসেছে। যার বাড়ি কালনা থানার পিন্ডিরা গ্রাম পঞ্চায়েতের অর্জুনা গ্রামে। বছর পঁত্রিশের এই যুবক বর্তমানে থাকে দুবাই। বাড়িতে রয়েছেন মা বাবা, স্ত্রী এবং দুই ছেলে মেয়ে। বাবা আব্দুল রহিম ফায়ার ব্রিগেডের এক জন অবসর প্রাপ্ত কর্মচারী। যুবকের বাড়ির সকলেরই দাবি ফরিদ ওরফে বাপি কোন ভাবেই পাচার চক্রের সাথে জড়িত নয়। তবে বিদেশে কাজের লোক পাঠানোর কথা তাঁরা অস্বীকার করেননি। প্রতিবেশীরা জানান-- ফরিদের চলাফেরা খুবই হাই টেটাসের। আর্জুনা গ্রামে দ্বিতল বাড়ি ও বিষয় সম্পত্তি আছে। তাছাড়া ফরিদ দুবাইয়ে থাকলেও হুগলির পাণ্ডুয়ার কলবাজারে একটি হাইফাই অফিস আছে। বিদেশে লোক পাঠানো এই অফিসটি চালান কয়েকজন যুবক। ডিকিন বলে একটি যুবক এই অফিসের বস। উল্লেখ্য ইরান থেকে ফিরে আসা যুবকদের মধ্যে কয়েকজন অভিযোগ করেছেন-- তারা ফরিদ মারফত ইরানে গিয়ে ফেঁসে গিয়েছিলেন। এই ব্যাপারে অর্জুনা গ্রামেরই নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী যুবক জানান-- বাইরে কাজে পাঠানোর পিছুনে বিরাট বিরাট চাঁই বোম্বে শহরে বসে আছেন। তারা সারা দেশেই ফরিদ ওরফে বাপির মতো এজেন্ট ছেড়ে রেখেছে।  ফরিদদের কাজ হলো বিদেশে মোটা বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে ছেলে সংগ্রহ করে ওই চাঁইদের ডেরায় নিয়ে যাওয়া। তারপর মাথাপিছু কমিশন গুনে নিয়ে এজেন্টদের ছুটি। এইবার বিদেশে নিয়ে গিয়ে মোটা বেতনে সঙ্গে সঙ্গে কাজ দেওয়ার নাম করে ওই যুবকদের নিকট চাঁইরা লক্ষাধিক করে টাকা নিয়ে নেয়। পরে এক মাসের ট্রাভেলিং ভিসায় ছেলেগুলোদের বিদেশে নিয়ে যায়। সেখানে পৌঁছনোর পর আজ কাজ হবে , কাল কাজ হবে বলে শুধু আশ্বাসই দেয়। শেষে এক মাসের ভিসার মেয়াদ ফুরালে ওই যুবকরা ওখানকার ভাষায় খল্লিবল্লি হয়ে যায়। অর্থাৎ ওই যুবকদের ওই দেশে থাকা বে-আইনি হয়ে যায়। তখনই ওই যুবকদের জীবনে নেমে আসে ক্রীতদাসের জীবন।


 || আলেক শেখ, কালনা ||

You can share this post!

Comments System WIDGET PACK