Breaking News

সিন্ধিয়া রাজপরিবারে খাবার টেবিলে ছিল রূপোর রেলগাড়ি !

Image
 

গোয়ালিয়রের মহারাজা প্রয়াত মাধবরাও সিন্ধিয়ার পুত্র জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া কিছুদিন আগেই গেরুয়া শিবিরে যোগ দিয়েছেন।  গোয়ালিয়র রাজপরিবারের এই হাইপ্রোফাইল নেতার দলবদলকে কেন্দ্র করে বিজেপি নেতাদের মুখে এদিন শুধুই রাজপরিবারের সদস্যদের নাম।

 অতীত ঘাঁটলে জানা যাবে গোয়ালিয়র রাজপরিবারের ইতিহাস। আজ থেকে প্রায় ১২০ বছর আগে মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে রাজত্ব করত সিন্ধিয়া রাজপরিবার। 

শোনা যায়, মাধবরাও সিন্ধিয়া ছিলেন অত্যন্ত স্বাধীনচেতা মানুষ। তেমনই আবার ছিলেন শৌখিনও। তিনি যে একটু বেশিই শৌখিনতা প্রিয় মানুষ ছিলেন তার প্রমাণ মেলে রাজপরিবারের অন্দরমহলের ইতিহাস ঘাঁটলে। গোয়ালিয়রের জয় মহল প্যালেসের ইতিহাসের পাতা ওলটালে জানা যায়, রাজপ্রাসাদের আসবাবপত্র থেকে শুরু করে নতুন নতুন জিনিস উদ্ভাবনে ভীষণ উৎসাহি ছিলেন মাধবরাও। এমনকি প্রাচীন ভারতের ইতিহাসে তিনিই ছিলেন একমাত্র মহারাজা, যিনি প্রযুক্তিবিদ্যায় অত্যন্ত দক্ষ একজন মানুষ ছিলেন। এমনকি শোনা যায়, তিনি নিজের জন্য তৈরি করে ফেলেছিলেন আস্ত একটি গাড়ি। 

এছাড়াও মাধবরাও সিন্ধিয়াই মারাঠা ইতিহাসের প্রথম ব্যক্তি ছিলেন, যিনি মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়র থেকে মোট ২৮’টি স্টেশন পর্যন্ত দীর্ঘ  রেলপথে যাত্রীদের সুবিধায় আলোর ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। শুধু তাই নয়, তিনি এটাও জানতেন যে, কীভাবে ইঞ্জিন চালাতে হয়। যন্ত্রের প্রতি যেমন বিশাল জ্ঞান ছিল, তেমনই ছিল আলাদা একটা আকর্ষণবোধ, যা তাঁকে নতুন নতুন জিনিস উদ্ভাবনে প্রলুদ্ধ করত। অসাধারন জ্ঞানী মাধবরাও সিন্ধিয়া নিজের জ্ঞানবুদ্ধি দিয়েই বানিয়ে ফেলেছিলেন একটি লোকোমটিভ ইঞ্জিন, যেটি নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর সেটি স্মৃতি হিসেবে রাজমহলের বাগানে তার একটি সমাধিক্ষেত্র বানিয়ে ফেলেছিলেন তিনি।

জয় মহল প্যালেসের ভিতরে সব থেকে অজানা ইতিহাস হল ছোট্ট একটি টয় ট্রেন, যেটির আবিস্কার কর্তা ছিল এক ব্রিটিশ কোম্পানি। শৌখিনতা প্রিয় মাধবরাও সিন্ধিয়া ‘ব্যাসেট লৌকে’ নামের ওই রেল কোম্পানির কাছে একটি রূপোর টয় ট্রেন বানাতে দিয়েছিলেন,  যেটি  তাঁর আমলে স্থান পেয়েছিল রাজবাড়ীর অন্দর মহলের খাবার টেবিলে। 

অভূতপূর্ব সুন্দর ছোট্ট এই টয় ট্রেনের একটি কাজ ছিল। কারণ, সুন্দর এই টয় ট্রেনে করে রাজপরিবারের অতিথিদের খাবার পরিবেশন করা যেত। তারজন্য খাওয়ার টেবিলের মধ্যেই পাতা থাকত অবিকল একই রকম দেখতে ছোট্ট রেলওয়ে ট্র্যাক, যেটার উপর দিয়ে চলত ওই টয় ট্রেনটি। একটি প্যানেলের সাহায্যে ট্রেনটিকে অপারেট করা হত। এছাড়াও বর্তমান যুগে ট্রে-তে করে যেমন অতিথিদের খাবার পরিবেশন করা হয়, ঠিক একই কায়দায় তখনকার দিনে এই ট্রেনে করে অতিথিদের থালার সামনে খাবার বয়ে নিয়ে যাওয়া হত। সেখানে থাকত সিগার এবং নানা ধরণের পানীয়। যদিও এখনও মহারাজা মাধবরাও সিন্ধিয়ার তৈরি এই নিদর্শন গোয়ালিয়র গেলে দেখতে পাওয়া যায়। তাহলে কি ভাবছেন? এমন অজানা ইতিহাসের সাক্ষী থাকতে একবার যাবেন নাকি গোয়ালিয়র!

Share With:


Leave a Comment

  

Other related news