Top Stories
  1. বান্ধবীর সাথে ঘুরতে গিয়ে ধর্ষিতা কিশোরী!
  2. 'ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি' দেবের এমনটাই অবস্থা'র কথা জানালেন বিজেপি নেত্রী রূপা গাঙ্গুলি!
  3. লোকসভা ভোটের আগে জয়নগরে তৃণমুলের বিপর্যয়, রাতারাতি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান!
  4. রাত পোহালেই তৃতীয় দফা ভোট, কর্মীদের ব্যস্ততা তুঙ্গে
  5.  চুরির দায়ে শ্রীঘরে  ভুয়া সন্ন্যাসী।  
  6. সম্পত্তি বিবাদ, মাকে পিটিয়ে খুন করে গাছে ঝুলিয়ে দিয়ে ফেরার ছেলে, গ্রেপ্তার পুত্রবধু
  7. গন্ডারের খড়্গ  নয় পায়ের হাড়  পাচার করতে গিয়ে গ্রেপ্তার ২ যুবক
  8. গাড়ির সঙ্গে বাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে মৃত্যু এক যুবকের, গুরুতর আহত ১!
  9. তৃণমূলের যুবরাজের  হেলিপ্যাড নামাতে নিধন প্রাচীন অশ্বত্থ গাছ ! সিভিজিলে অভিযোগ সিপিআইএমের। 
  10. পরিবহন দপ্তরের কর্মীদের কীর্তিকলাপ,অফিসে বসেই দেদার মদ্যপান, ভাইরাল ভিডিও
news-details
Entertainment

মরা বাড়িতে গিয়ে কান্নাকাটি করেই এদের রোজগার

শিলিগুড়ি বার্তা ওয়েবডেস্ক, ২৩ জানুয়ারি: রুদালী সিনেমার কথা মনে আছে অন্যের বাড়ির মরা কে ঘিরে ডিম্পল কাপাডিয়ার সেই আকাশ বাতাস কাঁপানো কান্না আর ভূপেন হাজারিকার কন্ঠে দিল হুম হুম করে গোটা ছবিটাই বদলে দিয়েছিল এক অন্য জগতে  কত রকম পেশা ইনা রয়েছে আধুনিক পৃথিবীতে নিত্য নতুন প্রেসার আমদানি করছে আবার সেই সঙ্গে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে অনেক পেশা রুদালী এমনই এক পেশা বলা ভালো কাঁদার পেশা অন্যের বাড়ির সব দেহ কে ঘিরে যাদের কেঁদে পয়সা রোজগার করতে হয় তাদের নাম রুদালী যাদের বাড়িতে কেউ নেই কাঁদার জন্য তারা রুদালী আমদানি করেন অর্থের বিনিময়ে আবার অনেকে মূলত রাজস্থানের বিস্তীর্ণ এলাকায় রুদালী এর প্রচলন রয়েছে।

মারা যাওয়া কোন ব্যক্তির বাড়িতে গিয়ে কালো কাপড় পরিহিত একদল নারী কাঁদতে থাকেন। তারা বুক এবং মাটি চাপরে ফুঁপিয়ে কাঁদেন । সবাই তাকিয়ে তাকিয়ে তাদের কান্নাকাটি দেখে। 

কালো পোশাক পরিহিত একঝাঁক নারী ঘুরে বেড়াত রাজস্থানময়। কোথাও কেউ মারা গেলে বা মারা যাবে এমন সম্ভাবনা থাকলে আগে থেকে ভাড়া করে রাখা হতো তাদের। তাদের প্রধান কাজ মরা বাড়িতে গিয়ে মাতম করা, বুক চাপড়ে কাঁদা, গাল বেয়ে অশ্রুধারা গড়িয়ে পড়তে দেয়া। ভুল করেও সে চোখের পানির একটি কণাও মুছত না তারা, এই প্রথম কারো মৃত্যুতে কাঁদছে না তারা, শেষ কান্নাও নয় এটি। গোটা বাড়িতে শোকাবহ পরিবেশ তৈরি করতেই তো তাদের ভাড়া করে আনা! এই প্রথা চলেছে শত শত বছর, এখনো চলছে রাজস্থানের বিভিন্ন অজপাড়াগাঁয়ে।
মৃত ব্যক্তির বাড়িতে গিয়ে শোকের মাতম করা এই নারীরা সাধারণভাবে পরিচিত ‘রুদালি’ নামে। তাদেরকে বলা হয় ‘প্রফেশনাল মৌনার’ বা পেশাদার বিলাপকারী। বিলাপ করেই জীবিকা নির্বাহ করে তারা। পরনে থাকে কালো পোশাক, যমের পছন্দের রঙ নাকি কালো। তাই মৃত্যুদূতকে খুশি করতে তার পছন্দের সাজেই নিজেদের সজ্জিত করে তারা।
সমাজের একেবারে নিচু জাত থেকে তুলে আনা এই রুদালিদের বেশ কিছু সমাজে বিয়ে করারও নিয়ম নেই। নিজের পরিবারের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লে লোকের মৃত্যুতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কাঁদবে কে? চেনা নেই, জানা নেই, রক্তের সম্পর্ক নেই; কেবল অর্থের বিনিময়ে মানুষের বাড়িতে গিয়ে আক্ষরিক অর্থে লোক দেখিয়ে কাঁদার জন্যই যেন জন্ম হয়েছে তাদের।
রুদালিদের এই পেশা আমাদের কাছে অর্থহীন মনে হতেই পারে, কিন্তু রাজস্থানের পশ্চাৎপদ কিছু জনগোষ্ঠীর কাছে এটিই স্বাভাবিক, নির্মম সত্য। তাদের ঐতিহ্যের সাথে মিশে আছে রুদালিদের অস্তিত্ব। সমাজের উচ্চশ্রেণীর নারীরা অর্থাৎ জমিদার বা ঠাকুর কন্যারা, বাড়ির বউরা   বাইরের লোকের সামনে কাঁদবে বা নিজেদের আবেগ প্রকাশ করবে, সে আবার কেমন কথা?
কাজেই তারা হাবেলির অন্দরমহলে বন্দী থেকে, লম্বা ঘোমটার আড়ালে দু’ফোঁটা চোখের পানি ফেলুক আর না ফেলুক তাতে মৃত ব্যক্তির কিছু আসে যায় না। কিন্তু সমাজের সামনে নিজের প্রভাব প্রতিপত্তি জাহির করতে গেলেও তো মরার সময় কান্নাকাটি করার জন্য কয়েকজন লোক লাগে। বড়লোকের সেই চাহিদা থেকে জন্ম নেয়া একটি সমাজের নাম ‘রুদালি’।
কখনো কখনো রুদালিদের টানা বারোদিনও কাঁদতে হয়। যত দীর্ঘদিনব্যাপী শোকের মাতম চলবে, ততই লোকজন ঐ পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা নিয়ে কানাঘুষা করবে। পারফরম্যান্স ভালো করতে তাই পেশাদার রুদালিরা নিজেদের জীবনের দুঃখ-কষ্টের কথা মনে করার চেষ্টা করে। সবসময় কিন্তু চাইলেই চোখের জল পড়ে না, তখন শুধু মুখের বিলাপই ভরসা। তবে যারা পুরোপুরি পেশাদার, তাদের নিজস্ব কিছু কৌশল আছে চোখে পানি আনার। কেউ কেউ থুতু লাগিয়ে মুখে জলের রেখা তৈরি করেন, কেউবা এক ধরনের গাছের শেকড় ব্যবহার করেন যা অনেকটা গ্লিসারিনের মতো কাজ করে। কাজলের মতো এক ধরনের কালিও পাওয়া যায়, যা চোখে লাগানোর সাথে সাথে তীব্র জ্বলুনি শুরু হয় আর চোখের জল পড়তে থাকে।
গ্লিসারিনের মতো কাজ করে।
নিষ্পেষিত এই সম্প্রদায়ের জীবনের কঠিন সত্য অবলম্বনে ‘রুদালি’ নামে বলিউডে সিনেম নির্মিত হয়েছে। ১৯৯৩ সালে নির্মিত ওই ছবিটির পরিচালনা করেছেন-কল্পনা লাজমী। আর তাতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন ডিম্পল কাপাডিয়া।

You can share this post!

Comments System WIDGET PACK

Download Our Android App from Play Store and Get Updated News Instantly.