news-details
Entertainment

বলিউডের 'দৃশ্যম'য়ের কায়দায় ২বছর আগের খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার বিজেপি নেতা সমেত পাঁচ

নিজস্ব সংবাদদাতা, ১৩ জানুয়ারী: একটি খুনের আগে খুনিরা বারবার দেখেছিল অজয় দেবগন অভিনীত দৃশ্যম সিনেমাটি। উদ্দেশ্য খুনের ঘটনা চাপা দিয়ে তদন্তের মোড় অন্য দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া। ঠিক যেমনটা করেছিলেন অজয় দেবগন ওরফে বিজয় সালগাওকর। একটি কুকুর মেরে পুঁতে দেওয়া হয়েছিল মাটিতে আর সেখান থেকেই ফিরে যেতে হয়েছিল পুলিশকে।
 
সিনেমায় নিহত যুবক ছিলেন গোয়া পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল-এর (আইজি) ছেলে। আইজি নিজে এবং গোয়া পুলিশের গোয়েন্দারা দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত চালিয়েও সেই খুনের কিনারা করতে পারেননি। উদ্ধার হয়নি মৃতদেহ। অজয় দেবগনকেও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। ২বছর আগে ইন্দোরে টুইঙ্কল দরগে নামে বছর বাইশের এক তরুণীকে খুন করা হয়েছিল। যদিও ইন্দোরের বিজেপি নেতা জগদীশ কারোতিয়া ওরফে কাল্লু পালোয়ান (৬৫) শেষ অবধি অজয় দেবগনের মত নিজেকে বাঁচাতে পারেনি। ২বছর ধরে লেগে থাকা পুলিশ জানতে পেরেছে ,শুধু একই কৌশল নয়, ‘দৃশ্যম’ সিনেমা দেখেই  পরিকল্পনা মাফিক  জগদীশ খুন করেছিলেন ওই তরুণীকে। শেষ পর্যন্ত দু’বছর তিন মাস পর পুলিশের জালে জগদীশ এবং তাঁর তিন ছেলে অজয় ৩৬), বিজয় (৩৮) এবং বিনয় (৩১) এবং তাদের আরেক শাকরেদ নীলেশ কাশ্যপ।

 তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, টুইঙ্কলের সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন স্থানীয় বিজেপি নেতা জগদীশ। বছর কয়েক  সম্পর্ক ছিল তাদের। ২০১৬ সালের মাঝামাঝি টুইঙ্কল জগদীশকে বিয়ে করতে চাপ দেওয়ায় সম্পর্কের অবনতি শুরু হয়। তিন সন্তান ও স্ত্রী বাদ দিয়ে নতুন সংসার পাতাজগদীশের পক্ষে সম্ভব ছিলনা। টুইঙ্কলও নিজের দাবিতে অনড় ছিলেন। ফলে  টুইঙ্কলকে খুনের পরিকল্পনা করে ফেলেন জগদীশ।

পুলিশের জানিয়েছে , প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃতরা জানিয়েছেন, ওই ঘটনার আগে তাঁরা দৃশ্যম ছবিটি দেখেন। অবশেষে ২০১৬ সালের ১৬ অক্টোবর টুইঙ্কলকে প্রথমে গলা টিপে খুন করেন। দেহ পুড়িয়ে প্রায় নিশ্চিহ্ন করে দেন অভিযুক্তরা। তার পর তদন্তের মোড় ঘোরাতে একটি কুকুর মেরে ওই এলাকার একটু দূরে একটি জায়গায় মাটিতে পুঁতে দেওয়া হয়।

ইন্দোরের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) হরিনারায়ণাচারী মিশ্র বলেন, ‘‘যেখানে কুকুরটি মাটিতে পুঁতে দেওয়া হয়েছিল, সেই এলাকায় অভুযুক্তরাই রটিয়ে দেয়, কাউকে খুন করে ওই জায়গাটিতে মাটিতে পুঁতে দেওয়া হয়েছে। সেই সূত্রে ওই জায়গায় খোঁড়াখুড়ি করে পুলিশ ওই কুকুরটির দেহাংশ ছাড়া কিছুই পায়নি।’’ যদিও পুলিশ হাল ছাড়েনি। সন্দেহের তালিকায় থাকা বিজেপি নেতা ও তাঁর ছেলেদের ধারাবহিক জিজ্ঞাসাবাদ চলতে থাকে। রহস্য উদঘাটন হয় লাই ডিটেক্টরের মাধ্যমে।

You can share this post!

Comments System WIDGET PACK

Download Our Android App from Play Store and Get Updated News Instantly.